কামদেবের বাংলা চটি উপন্যাস – পরভৃত – ১
(Kamdeber Bangla Choti Uponyash - Porvrito - 1)
This story is part of a series:
ঋষি কি যেন বলতে যাচ্ছিল ওরা ওকে ঠেলে সরিয়ে নিয়ে গেল। সুস্মিতা এতক্ষন অবাক হয়ে দেখছিল। ঋষির কথা শুভর কাছে শুনেছে অনেক কিন্তু এইরূপে দেখবে কখনো মনে হয়নি। খুব ইচ্ছে করছিল ওর সঙ্গে কথা বলতে, শুভকে বলল, আশিসটা খুব ভীতু।
— আশিসের চাণক্য বুদ্ধি। এইসব এ্যাণ্টিসোশালদের ঝামেলা করে লাভ নেই।
সুস্মিতার ভাল লাগেনা কথাটা। পর মুহূর্তে ঋষির জন্য চিন্তা হল। একা পেয়ে ওকে মারধোর করবে নাতো? যা সব গুণ্ডা এরা সব করতে পারে। কানে এল আশিস বোঝাচ্ছে সব ম্যানেজ করে এনেছিল ঋষি মাথা গরম করে গোলমাল পাকিয়ে দিয়েছে। অন্যরাও তালে তাল মেলাচ্ছে। ঋষি কোন প্রতিবাদ করছে না, সুস্মিতার খুব রাগ হয় ঋষির উপর। শুভকে বলল, তাড়াতাড়ি চলো অনেক রাত হল।
সুস্মিতাকে নিয়ে দ্রুত ওদের অতিক্রম করতে করতে বলল, আমরা আসিরে, রকে দেখা হবে। সুস্মিতার জানতে ইচ্ছে হয় শুভও কি মনে করে ঋষি গোলমাল করে দিয়েছে? ঋষির ধাক্কা খেয়রেই গুণ্ডাটা চুপসে গেছে।
রকে ফিরে এসে বসার কিছুক্ষণ পরেই শুভ এল। শুভকে দেখে সকলে পরস্পর মুখ চাওয়া চাওয়ি করে। শুভ এক পলক ঋষিকে দেখল। ঋষি মুচকি হাসল। শুভ বলল, তুই একটু সাবধানে থাকিস।
— -তুই কি করেছিস? তমাল খবর না দিলে কেলেঙ্কারি হয়ে যেত। আশিস বলল।
শুভ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে, মানে?
— বাবুদা মিথ্যে বলেছে? মিহির জিজ্ঞেস করে।
— সবাইকে তুই নিজের মত ভাবিস নাকি?
— একদম ফালতু কথা বলবি না। মিহির রেগে যায়।
— আঃ মিহির কি হচ্ছে? শুভর দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করল, সত্যি তুই কিছু করিস নি?
— আমি তা বলেছি? শুভ পালটা প্রশ্ন করে।
— সেটাই তো জিজ্ঞেস করছি, বাবুদা কেন বলল?
— কিছুই না একটা কিস করেছি। মৃদু স্বরে বলল শুভ।
ঋষি ঘাড় ঘুরিয়ে শুভকে দেখল। উঠে দাঁড়িয়ে বলল, আমি আসি।
— এখনি যাবি? শুভ জিজ্ঞেস করে।
— ভাগনীকে পড়াতে হবে। শুভ চলে গেল। কিস কথাটা শুনে শরীরে রোমাঞ্চ বোধ হয়। প্রায় সবারই গার্ল ফ্রেণ্ড আছে কেবল তার নেই। বাবা মা মারা যাবার পর বড়দির আশ্রয়ে আছে। তার জন্য জামাইবাবুর কাছে বড়দিকে ছোট হয়ে থাকতে হয়। বুঝলেও ঋষির কোনো উপায় নেই। ছোড়দি থাকে মফঃসলে, অবস্থাও ভাল নয়। বড়দির এখানে থেকে পড়াশুনা চালাতে সুবিধে হয়।
বাসায় ফিরতে না ফিরতে বড়দির প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়, কোথায় থাকিস? কলেজ থেকে ফিরে টিফিন করার সময়টুকূও পাসনা। তোকে নিয়ে আমার চিন্তা হয়।
— জামাইবাবু ফিরেছে?
— জামাইবাবুর ফেরার খবরে তোর দরকার কি? হাত মুখ ধুয়ে আয় খাবার দিচ্ছি।
ঋষি ফ্রেশ হয়ে ভাগ্নীকে টিভির সামনে থেকে তুলে নিয়ে পড়াতে বসে।
মনীষার খারাপ লাগে ঋষিকে এভাবে বলা ঠিক হয়নি। একটা প্লেটে রুটি তরকারি চা নিয়ে ঢুকলেন। মাকে দেখে টুকুন বলল, মামু তুমি খেয়ে নেও আমি আসছি। মনীষা আপত্তি করলেন না। ঋষিকে কিছু বলার আছে।
— শোন ঋষি খালি টুকুনকে পড়ালে হবে? তোর নিজের পড়া নেই?
ঋষি চায়ের কাপ নিয়ে হাসল। মনীষা প্লেট টেবিলে নামিয়ে রেখে কাছ ঘেষে দাড়ায়। তারপর কি যেন ভাবেন তারপর বললেন, রাগ করিস না। সংসারে কেউ কারো আপন নয়। সময় থাকতে থাকতে নিজেকে তৈরী করে নে।
ঋষি বুঝতে পারেনা বড়দি কেন এসব কথা বলছে? জামাইবাবু কি কিছু বলেছে?
— জামাইবাবু বলবে কেন, আমি বলতে পারিনা? গলা তুলে ডাকলেন, টুকূন পড়তে এসো, মামু ডাকছে।
টুকুন ঢুকে বলল, মামু দিদা এসেছে।
ঋষি বড়দির দিকে তাকায়। মনীষা বলল, আদুরীপিসি। তোর মনে নেই বনগায় পাশের বাড়িতে থাকতো?
কথা শেষ নাহতে একজন বয়স্ক মহিলা ঢুকলেন। ঋষিকে দেখে বললেন, ইষি না? কততো বড় হয়ে গেছে!
মনীষা সম্মতিসুচক হাসল। ঋষী মনে করার চেষ্টা করে। মহিলা বললেন, মণি তোর মনে আছে? ছোটোবেলা কত তেল মাখিয়েছি? বৌদি বলতো ঠাকুরঝি কচি হাড় ভেঙ্গে না যায়। নিজেই নিজের কথায় হেসে কুটিপাটি। ঋষি নীচু হয়ে প্রণাম করল।
মনীষা বলল, চলো পিসি টিভি দেখি।
যেতে গিয়ে ফিরে এসে নীচু স্বরে ঋষিকে বলল, হাসপাতালে দেখাতে এসেছে। কালই চলে যাবে। আজকে তোর সঙ্গে শোবে অসুবিধে হবে?
অসুবিধে হলেই বা কি করা যাবে। দুটো ঘর আর ডাইনিং স্পেস। বড়দি জামাইবাবু টুকুন বড় ঘরে শোয়। এইঘরে ঋষি, সকাল বেলা এটাই বৈঠকখানা। বাবার নিজের বোন নয়, একই পাড়ায় থাকতো। মায়ের সঙ্গে খুব ভাব, রান্নার কাজেও সাহায্য করত মাকে। আদুরীপিসির নিজের কোন সন্তান ছিল না। আমাদের নিয়ে থাকত। স্নানের আগে তেল মাখাবার কথাটা মনে পড়তে লজ্জায় কান লাল হয় ঋষির। সর্ষের তেল মাখিয়ে ধোনটা মুঠোয় ধরে টানত।
মা মজা করে বলত, ঠাকুর-ঝি ছিড়ে ফেলবে নাকি?
ঋষির ভাল লাগত, আপত্তি করত না। আদুরী পিসি হেসে বলত, ছিড়ব কেন? বউ যেন কোনোদিন গঞ্জনা দিতে না পারে তার ব্যবস্থা করছি।
— ঐটা হলেই হবে? বউয়ের ভাত কাপড়ের ব্যবস্থা করতে হবেনা?
সেসব কথা কি আদুরিপিসির মনে আছে? ঋষী ভাবে এইজন্যই কি তারটা এত বড়?
রাতে খাওয়া দাওয়ার পর আদুরিপিসি এসে পাশে শুয়ে পড়ে। ঋষি ঘুমের ভান করে পড়ে থাকে।
— ইসি বাবা ঘুমায়ে পড়িছো? অন্ধকারে সারা গায়ে হাত বোলায় আদুরি পিসি।
ঋষির সারা গা শিরশির করে তবু কোনো সাড়া দেয় না।
বনগার বাড়ীতে আদুরি পিসির সঙ্গে ঘুমিয়েছে তখন এমন হয়নি। পিসির মুখে মহাভারতের গল্প শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়তো। গঙ্গাকে দেখে রাজা প্রতীপ বললেন, আমার ছেলে হলে তোমাকে পুত্রবধু করব। তারপর প্রতীপের পুত্র হল তার নাম শান্তনু। ঋষি জিজ্ঞেস করল, গঙ্গা তাহলে শান্তনুর চেয়ে বয়সে বড়? পিসি হেসে বলল, বউ বড় হলে বেশি সুখ। মায়ের স্নেহ বউয়ের ভালবাসা দুই পায়। ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ে ঋষি।
সকাল হতে মনীষা দরজা ধাক্কা দেয়। ধড়ফড়িয়ে উঠে বসে ঋষি। পাশে আদুরি পিসি ডুবে আছে ঘুমে। একটা পা তার উরুর উপর তোলা। ঋষি ধীরে পা-টা সরিয়ে সাড়া দিল, খুলছি।
দরজা খুলতে চায়ের কাপ হাতে ঢুকল মনীষা। ঋষির হাতে এক কাপ দিয়ে পিসিকে ডাকল।
— -তুমি চা খেয়ে রেডি হয়ে নেও। জামাই বেরোলে আমরা বের হব। আর ঋষি তুই বাড়ীতে থাকবি।
— কেন কলেজ যাবনা? আজ তো শনিবার, দুপুরে টিউশনি আছে।
— তার আগেই ফিরে আসব। তোর কলেজ যাওয়ার দরকার নেই। তুকুনকে স্কুল থেকে নিয়ে বাড়ীতে থাকবি।
বাংলা চটি কাহিনীর সঙ্গে থাকুন …।।
Kamdeber Bangla Choti Uponyash
What did you think of this story??
Comments